কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে ঘুষ দাবির মামলায় অনিক দে নামে এক আসামিকে সংবেদনশীল পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল জারি করা এক অফিস আদেশে অনিক দে বাবুসহ কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. শাহিদুল আলম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, অনিক দে-কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর গোপনীয় শাখার উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।
তবে এই পদায়নের সময়কাল নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এর মধ্যেই কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম একটি ঘুষ দাবির মামলা আমলে নিয়েছেন, যেখানে অনিক দে তিন নম্বর আসামি।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন প্রফেসর আখতার আলম। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ওই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আবেদন করা হলে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব করা হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারক নথি তলব করে মামলাটি আমলে নেন।
বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে গিয়েছি। আদালতের সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট।
এদিকে, অভিযোগ থাকা অবস্থায় বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে বরং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পদায়ন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, অনিক দে পূর্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর গোপনীয় শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অর্থ ছাড়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন। দালাল চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষ আদায়, ভুক্তভোগীদের হয়রানি এবং টাকা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের মামলা আছে, তাকে আবার রাজস্ব শাখায় বসানো মানে জনগণের সঙ্গে তামাশা করা। প্রশাসনের ভেতরেও এ নিয়ে অস্বস্তির কথা শোনা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে এ ধরনের পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/জেএন



