মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বন্যা ও জলাবদ্ধতা রক্ষায় মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যা ও জলাবদ্ধতা রক্ষায় মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট : সিলেট নগরকে বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সকালে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন শেষে প্রকল্পের সার্বিক দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর।

এই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এমরান আহমদ এমপি, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীর সংযোগস্থলে জলকপাট বা স্লুইস গেট নির্মাণ, তীর উঁচু করা ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেটে প্রতিবছর বেশকিছু আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়ানোর আগেই তলিয়ে যায়।

২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই বিষয়ে একাধিক সভা ও সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত এরই মধ্যে সিলেট পরিদর্শন করে নিজের মতামত দিয়েছেন।

সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারের কাছে। এখনো এটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি।

তবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে সরকার প্রজেক্টটি গ্রহণ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তাদের। প্রকল্পটির জন্য প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটিতে স্লুইস গেট প্রস্তাবনা আছে তিনটি। একটি নগরের কাজিরবাজার এলাকায় বৈঠাখাল, ছড়ার পাড় এলাকার গোয়ালীছড়া ও বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়া।

স্লুইস গেটগুলোর পাশে পাম্প বসানো হবে। নদীর পানি শহরে প্রবেশ না করার জন্য স্লুইস গেট বন্ধ রাখা হবে। আবার বৃষ্টির পানিতে ছড়া ভরে গেলে সেই পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সিলেট তামাবিল বাইপাস রোডের শাহপরান ব্রিজ থেকে বাধাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার নদীর দুই পাড় উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করার জায়গা নেই, সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতেই এই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এটি গ্রহণ করেছে। শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসবে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গী রয়েছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। সিলেটে পৌঁছে তিনি হজরত শাহজালাল মাজার জিয়ারত করেন।

প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে এই প্রকল্প ছাড়াও বাসিয়া নদী খনন, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন এবং বিকেলে দলীয় সভায় যোগ দিবেন।

স্ট্যালিন রহমান/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন