নওগাঁ: সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশীর মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছাবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৪০) মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক চিঠির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। শনাক্ত হওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। প্রিয়জনের নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন শোকাহত স্বজনেরা।
শনাক্ত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজন হলেন-উপজেলার উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।

এ ছাড়া ওই দুর্ঘটনায় নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।
জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় এই নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনো মেলেনি।
আত্রাইয় উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিচয় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ আসছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছাতে পারে।
ইউএনও আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহ গুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হলেই দ্রুত তাঁদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনজি/এএস



