বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শিবির নেতা নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন, দাবি পুলিশের

শিবির নেতা নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা : নিখোঁজের প্রায় এক দিন পর কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) রাতে উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদ নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মূলত বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ, পরবর্তীতে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত (ভ্রূণ হত্যা) করানো এবং ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় তিনি এই পথ বেছে নেন। উদ্ধার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মো. জিসান আহম্মেদ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার বীরবাগ গোয়ালী এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে পরদিন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ। ওই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম জিসানকে উদ্ধারে অভিযানে নামে।

অনুসন্ধান নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

বিষয়টি জানার পর জিসান তাকে জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং বাচ্চা নষ্ট না করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রাণের ভয়ে ওই নারী রাজি হলে জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ট্যাবলেট কিনে ভুক্তভোগীকে খাওয়ান।

এতে তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হলে জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে আবারও ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে ওই নারীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দেন।

একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু ১১ জুন সন্ধ্যার পর বিয়ে না করার তালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং তার চাচাতো ভাইকে দিয়ে থানায় নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে জিডি করান।
একপর্যায়ে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ভুক্তভোগী ওই নারী নিজে বাদী হয়ে জিসানকে আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুন) দাউদকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩১৩/৫০৬/৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-১৩) রুজু করা হয়েছে।

এজেড/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন